প্রাণ গোবিন্দ প্রাণ গোপাল—কেশবঃ মাধবঃ দ্বীনঃদয়াল
দ্বীনঃদয়ালু প্রভু দ্বীনঃদয়াল পরমদয়ালু প্রভু পরমদয়াল
গুরুর নামোঃ বৈ কেবলম্ — গুরুই কৃপাহি্ কেবলম্।।।।
ভগবানের উপর সকল ভার রাখিয়া কার্য্যক্ষেত্রে কার্য্য করিতে থাক। তাঁহার বিচার সূক্ষ্ম। বেদবাণী ১ম খন্ড, ১১৯ নং পত্রাংশ
জয় রাম, জয় গোবিন্দ
.....................................................................................................................................................................................................
জয়রাম রামভাই স্মরণে শ্রীফণীন্দ্রকুমার মালাকার সপ্তম অধ্যায় (৩)
ঠাকুর ----সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিট পরে যাত্রা কইরা আসাম মেইল পাওয়া যাইব? উত্তরে অধ্যাপক জানাইলেন, "আসাম মেইল রাত্রি ৮টায়। কাজেই পাওয়া যাইবে।" ঠাকুর বলিলেন, সেইভাবে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। আমার সঙ্গে শচীনবাবু ও ফণীবাবু যাইবেন। আপনেগ মধ্যে যদি কেহ কেহ যাইতে ইচ্ছা করেন যাইতে পারেন। প্রমথবাবু বলিলেন, "আমি এবং মাধববাবু যাব।" ঠাকুর ---- উত্তম কথা। প্রমথবাবুরা ঠাকুর প্রণাম করিলে ঠাকুর মাধববাবুকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনে কই চলছেন? আপনেও কি তাগ সঙ্গে যাইবেন? মাধববাবু বলিলেন, "না, বাবা, আমি পোস্ট অফিসে এখনি একখানা জরুরী টেলিগ্রামে শিলং-এর পোস্টমাস্টারকে জানিয়ে দেব ঠাকুর নিয়ে আমরা আসছি। একটা বাড়ি ১ মাসের জন্য ভাড়া কর। ৫ তারিখ আসাম মেইলে ফেণী হইতে রওনা হব। তুমি মোটর স্ট্যান্ডে উপস্থিত থাক। এই মর্মে টেলিগ্রাম দিয়ে আসি। পোস্টমাস্টার আমার আত্মীয় এবং আপনার আশ্রিত।" ঠাকুর বলিলেন, টেলিগ্রাম পাইবেন কি? মাধববাবু বলিলেন, "টেলিগ্রাম যাতে আগামীকাল পান, সেভাবে ব্যবস্থা করে নিব।" ঠাকুর ----ভাল, তাই করেন। বড়দাও মাধববাবুর সঙ্গে গেলেন।
রাত্রি ১টায় ঘুম ভাঙ্গিয়া যাওয়ায় ঠাকুরের নিকট যাইয়া দেখি ঠাকুর বসিয়া রহিয়াছেন। আমি মশারি একটু ফাঁক করিয়া ভিতরে গিয়া বসিলে ঠাকুর জিজ্ঞাসা করিলেন, ঘুমাও নাই?
উত্তর ----- ঘুমিয়েছিলাম। ঘুম ভেঙ্গে যেতে এসেছি।
ঠাকুর ----- তুমি আমারে সজাগ পাহারায় রাখছ। এমন দিনও আসব যখন আর পাহারার প্রয়োজন হইব না।
উত্তর ----- আমার সেই দিনও দেখতে হবে?
ঠাকুর ---- হইব।
আমার হাত দুটি কিন্তু এই কথার মধ্যেও ঠাকুরের দেহে সঞ্চরণ করিয়া ফিরিতেছিল। ঠাকুরের নিকট গেলেই আমার অবাধ্য হাত দুটি আয়ত্তে রাখিতে পারিতাম না। আমার মনে হয় ঠাকুরের প্রশ্রয় পাইয়াই হাত দুইটি ঐরূপ গোলমাল বাধাইয়া দিত। ঠাকুর কোন সময় বিরক্ত বোধ করিতেন না। ঠাকুরকে পুনরায় জিজ্ঞাসা করিলাম।
প্রশ্ন ---- সেদিন কথাপ্রসঙ্গে বলেছ, শিলং যেতে তোমাকে যাবার জন্য করুণ আহ্বান জানাচ্ছে? আর পাইন বনগুলি জঞ্জালপূর্ণ এই কথার তাৎপর্য কি?
উত্তর ---- ঐ কথাগুলি তুমি মনে রাখছ?
আমি বলিলাম ----- কথাপ্রসঙ্গে যখন যাহা বল আমি লিখে রাখি।
ঠাকুর --- কেন ঐগুলি দিয়া কি কাজ হইব?
উত্তর ---- আমার বিশেষ কাজ হয়। তুমি সকল সময় আমাদের নিকট থাক না। তোমার অবর্তমানে মাঝে মাঝে তোমাকে দেখবার জন্য মন আঁকুবাঁকু করে। তখন ঐ লেখাগুলি পাঠ করে তোমার চিন্তায় ডুবে থাকি। বাইরের উৎপাত আর থাকে না। তাই লিখে রাখি।
ঠাকুর ---- উত্তম কাজ। ঐরকম চিন্তাতে ডুবে থাকারে ধ্যান বলে। ধ্যান বলে চিন্তারে। চিন্তা করতে করতে চিন্তার বিষয়বস্তুর সঙ্গে একত্ব প্রাপ্ত হওয়ারে সমাধি বলে।একটু সময় পর পূণরায় বলিতে শুরু করিলেন ----- কারা আমারে করুণ আহ্বান জানায় এবং পাইন বনগুলি জঞ্জালপূর্ণ কেন, শিলং গেলে বুঝতে পারবা। কাজ করার পূর্বে প্রকাশ করতে নাই। কাজ যে করা যাইব তার নিশ্চয়তা কি? ভক্তি স্রোতের টানে কখন কোনখানে নিয়া যাইব আমার গোচরে নাই। এখন গিয়া একটু ঘুমাও।
আমি খাট হইতে নামিয়া অপর কোঠায় যাইয়া ঘুমাইয়া পড়িলাম।
হরে কৃষ্ণ
হরে কৃষ্ণ
কৃষ্ণ কৃষ্ণ
হরে হরে 
হরে রাম
হরে রাম
রাম রাম
হরে হরে
.............
বেদবাণী ১ম খন্ড, ১১৯
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ
on
June 28, 2021
Rating:
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ
on
June 28, 2021
Rating:




No comments:
sri sri Ramthakur