শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রথম জীবনে খুবই প্রচ্ছন্ন ছিলেন। .......................

 শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রথম জীবনে খুবই প্রচ্ছন্ন ছিলেন।

তবু তার যোগবিভূতিগুলি ধীরে ধীরে জনসাধারণের চক্ষে প্রকটিত হয়ে পড়েছিল, এর কারণ তিনি নিজেই বলেছেন, “যাহারা মহাজন, যোগৈশ্বর্য্যগুলি তাঁহাদের পরিচর্য্যার প্রতীক্ষায় সর্বদাই সঙ্গে সঙ্গে থাকে। মহাজনরা সেদিকে দৃকপাত করেন না, কিন্তু কখনও কখনও কোন বিশেষ কারণে ঐ সকল যোগ-বিভৃতি প্রত্যক্ষ হইয়া পড়ে।”

ব্রহ্মঃ ঠাকুর বললেন, “ব্রহ্মের আবার দিগবিদিক কি? ব্রহ্ম সর্বদিকে বিরাজ করেন। যেইভাবে বসাইলে আপনি আনন্দ পান সেইভাবে বসান গিয়া। আনন্দ পাওয়া নিয়া কথা।” ফণীবাবু লিখেছেন, ঠাকুরের কথা বিচার করিলে দেখবেন ভদ্রলোক কৈবল্যনাথ বিগ্রহ বসাবেন, আর ঠাকুর বললেন ব্রহ্মের দিগবিদিগ নাই। ব্রহ্ম সকল দিকে আছেন। তা হলে বিচারে পাওয়া গেল ঠাকুর প্রকারান্তরে নিজেকে ব্রহ্ম বলে স্বীকার করলেন।





গ্রন্থে গ্রন্থি বাড়ে
ফেনী তে সাব ডেপুটি শ্রী সুরেশচন্দ্র চক্রবর্তী মহা শয়ের বাসায় বেলায় প্রায় আড়াইটা / তিনটা পর দ্বিপ্রহরের বিশ্রামের পর শ্রী শ্রী ঠাকুর একাকী বসিয়া আছেন | সেই সময় আমি খাটের উপর একপাশে দাঁড়াইয়া আছি | ঠাকুর স্বগত: উক্তি করিলেন -"গ্রন্থে গ্রন্থি বাড়ে |" তিনি ৩/ ৪ বার এই উক্তির পুনরাবৃত্তি করিলেন | তখন আমি মনে মনে ভাবিতে লাগিলাম -কাহাকে উপলক্ষ করিয়া তিনি পুন : পুন : একই উক্তি করিতেছেন ? বোধ হয় ,কোনো সুক্ষদেহী বা বিদেহী মহাপুরুষ আসিয়াছে ?
শ্রী শ্রী ঠাকুর হঠাৎ আমারদিকে তাকাইয়া বলিতে লাগিলেন -"গ্রন্থি কি - বুঝিতে পারিলেন না? এই পৈতের যে গিরা দিয়া থাকেন বা গ্রন্থি দেন |"
তখন আমার হুশ হইলো | আমি বুঝিলাম - ' শ্রী শ্রী ঠাকুর আমাকে লক্ষ করিয়া এই উক্তি করিতেছেন | আমি ঠাকুর দিকে বোকার মতো তাকায়া রহিলাম এবং তাহার উক্তি র তাৎ পর্যও কি কিছুই বুঝিতে পারলামনা | ঠাকুর পুনরায় আমাকে লক্ষ করিয়া বলিতেছিলেন -" মনে করুন আপনি কালীঘাট হইতে শ্যাম বাজার দিকে রওনা হইলেন ,ইতিমধ্যে মনুমেন্ট ,গভনরের বাড়ী এবং রাস্তায় তামাশা দেখিয়া গন্তব্য স্থলের কথা ভুলিয়া গেলেন | আপনার কিন্তু সীমাবদ্ধও সময়ের মধ্যে পৌঁছতে হইবে ; রাত্রি শেষ হইয়া আসিল ,আপনি কিন্তু আপনার গন্তব্য স্থলে পৌছাইতে পারিলেননা | আপনি পথে র ভেল্কিতে ভুলিয়া রহিলেন | এইজন গ্রন্থ পড়িতে নাই | বেশি গ্রন্থ পড়িলে মানুষ - কোনটা পথ বা কোনটা বিপথ নির্ণয় করতে পারেনা | এক ধরলে সব পায় | সব ধরলে সব যায় | শুধু নাম ধরিয়া পড়িয়া থাকুন | নামের নিকট কিছু চাহিতে নাই | নাম আপনাকে স্বধামে পৌছায়ে দিবেন | দেখুন রেলের একখানা টিকিট কিনিয়া রেলগাড়িতে বসিয়া থাকিলে আরোহীকে ঠিক গন্তব্য স্থান পৌছায়ে দেয় | পথ কখনো অন্য কারণে তাহার দেরি হইতে পারে | কিন্তু একবার গাড়িতে চড়িয়া বসিলে গাড়ি তাহার গন্তব্য স্থান পৌছায়ে দিবে |"
শ্রী শ্রী ঠাকুর উক্ত উক্তির পর আমি বুঝিলাম - সত্য সত্যই আমি মহাপুরুদের জীবনী পরিয়া কেবল মুখস্থ করিতেছি ও সীমাবদ্ধও জ্ঞান দ্বারা নিজেকে বাঁধিতেছি | কি করিয়া তাহারা ভগবান লাভ করিলেন বা সিদ্ধও মহাপুরুষ হইলেন - এই খোঁজই আমি দিনরাত্রি কাটাইতেছিলাম | আমি আজ একটা ধরি , আবার কাল সেইটাই ছাড়ি | এইভাবে আমি পথ ও ভুলে হইয়া বিপথগামী হৈতেছিলাম | আমার ঠাকুর শ্রী ভগবান | তিনি আমাকে প্র কৃত পথের সন্ধান দিয়া রক্ষা করিয়াছেন |
আমি শ্রী নাম মজিতে পারিতাছি না , কেবল আত্মও
- প্রতিষ্টা য় ব্যাস্ত | পরনিন্দা ও গ্রামচর্চায় আমি নিজেকে বহুখণ্ডও বিভক্তও করিয়া নাম হইতে দূরে সরিয়া যাইতেছিলাম |














শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রথম জীবনে খুবই প্রচ্ছন্ন ছিলেন। ....................... শ্রীশ্রীরামঠাকুর প্রথম জীবনে খুবই প্রচ্ছন্ন ছিলেন। ....................... Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ on June 12, 2021 Rating: 5

No comments:

sri sri Ramthakur

Powered by Blogger.