ঠাকুর বলিলেন, “সারারাত খুব কীর্তন হইয়াছে,ঘুমের প্রশ্নই উঠে না!”

 



একদিন অনেক রাত্রি পর্য্যন্ত সমবেত লোকদিগের সহিত কথা বলিয়া প্রায় একটার সময় ঠাকুর শয়ন করিলেন।

পরদিন অতি প্রত্যুষে ঘুম হইতে উঠিয়া দেখি ঠাকুর যথারীতি বিছানার উপর বসিয়া আছেন।
প্রনাম করিয়া বলিলাম, “রাত্রিতে ঘুম হইয়াছে ত”?
ঠাকুর বলিলেন, “সারারাত খুব কীর্তন হইয়াছে,ঘুমের প্রশ্নই উঠে না!”
আমি অবাক হইয়া বলিলাম, “আমরা ত কিছুই শুনিতে পাই নাই”।
ঠাকুর কোন কথাই বলিলেন না। এই রকম প্রায়ই বলিতেন, কীর্ত্তনের জন্য তাঁহার ঘুম হয় না।
ঠাকুরের বিছানার খুব নিকটেই আমার বিছানা, সেদিন চুপ করিয়া শুইয়াছিলাম, ঘুম আসিতেছিল না।
হঠাৎ শুনিতে পাইলাম একটি কীর্ত্তনের দল কীর্ত্তন করিতে করিতে এই দিকে আসিতেছে।
বিছানা হইতে উঠিয়া গিয়া বাহিরের দরজা খুলিয়া দিলাম। কিন্তু তখন আর কীর্ত্তনের শব্দ পাইলাম না। এমন কি রাস্তায় জনপ্রাণীও দেখিলাম না।
মনের ভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয় স্থির করিয়া সদর দরজা বন্ধ করিয়া পুনরায় শয়ন করিলাম।
শয়ন করিবামাত্রই আবার কীর্ত্তন, মনে হইতেছে কীর্ত্তনের দল আমাদের বাড়ীর পশ্চাতের গলি দিয়া আসিতেছে। আবার উঠিয়া গেলাম।
এবারও বিফল মনোরথ হইতে হইল।এবারেও শয়ন করিবামাত্রই কীর্ত্তনের শব্দ শুনিতেছিলাম এবং ঐ সুমধুর কীর্ত্তন শুনিতে শুনিতে কখন ঘুমাইয়া পড়িয়াছি জানিতে পারি নাই।
পরের দিন সকালে ঠাকুরকে জিজ্ঞাসা করিলাম, “ কাল রাত্রে কীর্ত্তন হইয়াছে কি”?
ঠাকুর বলিলেন, “ক্যান আপনি শোনেন নাই”?
রাত্রির সমস্থ ঘটনা ঠাকুরকে বলাতে বলিলেন, “কীর্ত্তন শুনিতে চাহিয়াছিলেন না?
বড় মধুর এই কীর্ত্তন,
প্রায় সারা রাত্রি ধরিয়া এই কীর্ত্তন রোজই শুনিতে পাই”। বলিলাম, “কাহারা এই কীর্ত্তন করে”?
শ্রীশ্রীঠাকুর কোন উত্তর না দিয়া অন্য প্রসঙ্গ শুরু করিলেন।
“শ্রীগুরু শ্রী শ্রীরামঠাকুর”
---- শ্রী রোহিনী কুমার মজুমদার।
🙏জয় রাম,জয় গোবিন্দ🙏
ঠাকুর বলিলেন, “সারারাত খুব কীর্তন হইয়াছে,ঘুমের প্রশ্নই উঠে না!” ঠাকুর বলিলেন, “সারারাত খুব কীর্তন হইয়াছে,ঘুমের প্রশ্নই উঠে না!” Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ on June 12, 2021 Rating: 5

No comments:

sri sri Ramthakur

Powered by Blogger.