মনমোহন মালাকার বাবুর নাম প্রাপ্তিঃ
ঠাকুরমশায় নাম কৃপাপার্থীদের নাম বিতরণ শেষ করলেন। মনোমোহন মালাকার স্তব্ধ হয়ে ঘরের এক পাশেই বসেছিলেন। ক্ষণকাল পরে তিনি উঠে দাঁড়ালেন, ঠাকুরমহাশয়ের কাছে গিয়ে প্রণাম করে বললেন, "ঠাকুরমহাশয়, আমাকে কি নাম দিবেন?" "হঃ, এই ন্যান।" দাতা উদ্যত, কিন্তু যিনি নাম ভিক্ষা করলেন তিনি পশ্চাৎপদ। মালাকার বললেন, তিনি স্নান করেননি, বাসি কাপড়ও ছাড়েননি, এই অবস্থায় নাম নেন কী করে? তার অসুবিধার কথাটা ব্যক্ত করায় ঠাকুরমহাশয় বললেন, "নাম সর্ব্ব অবস্থায় পবিত্র, সেখানে শুচি-অশুচি নাই, দিনক্ষণ নাই। যখন নেন, যতটা নেন, ততই মঙ্গল।" অনেকক্ষন ধরে ঠাকুরমহাশয় নামের কথা মালাকারকে বললেন। কিন্তু বহু জন্ম-জন্মান্তরীণ সংস্কারের জগদ্দল পাষাণ-স্তুপ তাহাতেও সূচাগ্র ভূমি নড়লো না। মালাকার জানতে চাইলেন যে ঠাকুরমহাশয় সেখানে আগামীকাল পর্য্যন্ত থাকবেন কিনা? তাহলে তিনি আগামীকাল সকালে স্নান করে এসে নাম নেবেন। উত্তরে ঠাকুরমহাশয় বললেন,, "হ, আমি থাকুম। আপনার যখন ইচ্ছা, কালই নিতে পারেন।"
বাড়ির মুখে কয়েক পা মাত্র অগ্রসর হয়েছিলেন মালাকার। সহসা ফিরে এসে আবার ঠাকুরমহাশয়ের কাছে নাম ভিক্ষা করলেন -- ঠাকুরমহাশয়ও নাম দিলেন। নামের অনেক কথা ঠাকুরমহাশয়ের মুখ থেকে তিনি শুনলেন। তখন মালাকারের মনে হচ্ছিল তিনি যেন স্নান শেষে, ধৌত বসে, ঠাকুরমহাশয়ের কাছে বসে আছেন। এমন স্নিগ্ধ ও পবিত্র ভাব এরপর শ্রীমনোমোহন মালাকার তার নব্বই বছরের দীর্ঘ জীবনে আর কোনদিনও অনুভব করেন নি।
জয় রাম। জয় গোবিন্দ।।
মনমোহন মালাকার বাবুর নাম প্রাপ্তিঃ
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ
on
June 14, 2021
Rating:
Reviewed by শ্রী শ্রী সত্যনারায়ণ নমঃ
on
June 14, 2021
Rating:



No comments:
sri sri Ramthakur